খেরভান্দার গ্রাম পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা-I ব্লকের অন্তর্গত একটি ছোট গ্রাম। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই গ্রামের জনসংখ্যা ৭৫৪ জন, এবং সমস্ত বাসিন্দা তফসিলি জাতিভুক্ত। গ্রামটি কেদারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে এবং শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, যা কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের অংশ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। এই কেন্দ্রটি শীতলকুচি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং মাথাভাঙ্গা-I ব্লকের কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে কেদারহাটও রয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপির বারেন চন্দ্র বর্মন শীতলকুচি আসনে জয়লাভ করেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্থ প্রতিম রায়কে পরাজিত করেন।
পঞ্চায়েত নির্বাচন ও স্থানীয় রাজনীতি
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, শীতলকুচি ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে। এই ফলাফল বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল, কারণ তারা বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় জয়ী হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, "পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের জয় প্রমাণ করে যে কোচবিহারের মানুষ বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে।"
সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়, শীতলকুচির জোরপাটকি গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন যুবক নিহত হন। এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ও রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ঘটে, যার মধ্যে শীতলকুচিও রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং বুথ দখলের অভিযোগ ওঠে।
>>খেরভান্দার গ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে, সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলির উচিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনগণের উন্নয়নে মনোনিবেশ করা।

